আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। বিবিসির খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শনিবার নির্ধারিত এই আলোচনায় অংশ নেবেন ভ্যান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারসহ একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।
পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনায় ইতিবাচক ফলের বিষয়ে তিনি আশাবাদী। তবে একইসঙ্গে সতর্ক করে তিনি জানান, ইরান কোনো ধরনের কৌশলী আচরণ করলে তা যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না।
এদিকে, ইরানের প্রতিনিধিরাও আগেই ইসলামাবাদে অবস্থান নিয়েছেন। শনিবার সকালে ৭১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে সেখানে পৌঁছান ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেন, ইরান আন্তরিক মনোভাব নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে এসেছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের আস্থা সীমিত। পাশাপাশি, শান্তি চুক্তির জন্য তেহরানের ন্যায্য অধিকার স্বীকারের আহ্বান জানান তিনি।
বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভ্যান্সের এই মিশন নিয়ে রসিকতা করে বলেন, চুক্তি সফল হলে কৃতিত্ব তিনি নেবেন, আর ব্যর্থ হলে দায় পড়বে ভ্যান্সের ওপর।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য ভ্যান্সের জন্য মিশনটির জটিলতা ও চাপের বিষয়টি তুলে ধরে। ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটি তার অন্যতম কঠিন কূটনৈতিক দায়িত্ব, যেখানে সফলতা যেমন কঠিন, ব্যর্থতার ঝুঁকিও তত বেশি।
বিশ্ব অর্থনীতি যখন সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে চাপে রয়েছে, তখন এই আলোচনার ফলাফলের দিকে মিত্র দেশগুলো গভীরভাবে নজর রাখছে। একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে হলে পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর করে সব পক্ষের স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার ভ্যান্সকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছাবে। একইসঙ্গে তিনি এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।









