আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরান-ইসরাইল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান-সমর্থিত এ গোষ্ঠী কেবল ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলায় সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণে নেবে—তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি হরমুজ প্রণালি এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালি-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বৈশ্বিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। এ ধরনের পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে থাকা হুথিরা এতদিন সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে তারা ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা জোরদার করেছে। এর ফলে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

লন্ডনভিত্তিক Chatham House-এর বিশ্লেষক ফারিয়া আল-মুসলিম সতর্ক করে বলেছেন, লোহিত সাগরে হামলা অব্যাহত থাকলে জাহাজ চলাচলের খরচ ও জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে অনেক জাহাজ কোম্পানি বিকল্প রুট হিসেবে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে চলাচল করছে, যা সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়াচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের এ পদক্ষেপ আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সক্রিয় করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ। একই সঙ্গে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যও এতে প্রভাব ফেলছে। সৌদি আরবের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা এবং নিজস্ব প্রভাব বিস্তারের বিষয়টিও তাদের কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এদিকে জাতিসংঘ-এর ইয়েমেন বিষয়ক বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান উত্তেজনা ইয়েমেনকে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে পারে। এতে দীর্ঘদিনের সংঘাতে বিধ্বস্ত দেশটির শান্তি প্রক্রিয়া আরও পিছিয়ে যাবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ তীব্রতর হবে।

সামগ্রিকভাবে, হুথিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে, যার প্রভাব কেবল আঞ্চলিক নয়—বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্য ব্যবস্থাতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।