পুঁজিবাজার প্রতিবেদক :

বিশ্ববাজারে কফি ও চিনির দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বৈরী আবহাওয়া, উৎপাদনকারী দেশগুলোতে সরবরাহ সংকট এবং মজুদ কমে যাওয়ায় এ দুই কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে প্রধান উৎপাদনকারী দেশ ভিয়েতনামের স্থানীয় বাজারেও।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিশ্বের শীর্ষ রোবাস্তা কফি উৎপাদনকারী দেশ ভিয়েতনামে গত এক সপ্তাহে স্থানীয় বাজারে কফির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডস অঞ্চলে কৃষকরা প্রতি কেজি কফি বিন ৯১ হাজার ৬০০ থেকে ৯২ হাজার ডং দামে বিক্রি করছেন, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৮৯ হাজার থেকে ৮৯ হাজার ৫০০ ডং।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কৃষকদের মজুদ প্রায় শেষ হয়ে আসায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। পাশাপাশি অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, তীব্র তাপপ্রবাহ, ছত্রাকের আক্রমণ এবং সেচ ব্যয় বৃদ্ধি আগামী মৌসুমের উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) রোবাস্তা কফির দাম প্রতি টন ৩ হাজার ৭৩১ ডলারে লেনদেন হয়েছে। এর আগের দিন দাম পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৯২০ ডলারে পৌঁছায়। যদিও পরবর্তীতে কিছুটা কমেছে, তবুও টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো কফির বাজার ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এল নিনোর প্রভাবে ভিয়েতনামে আগামী ২০২৬-২৭ মৌসুমের কফি উৎপাদন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ব্রাজিলে কফি সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া উগান্ডা ও ইন্দোনেশিয়াতেও সরবরাহ প্রত্যাশার তুলনায় কম থাকায় বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।

এদিকে বিশ্ববাজারে সাদা চিনির দামও বেড়েছে। সর্বশেষ লেনদেনে প্রতি টন সাদা চিনির দাম ০.৮৫ শতাংশ বেড়ে ৪৮৭ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপের তীব্র তাপপ্রবাহে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং ব্রাজিলের মধ্য-দক্ষিণাঞ্চলে জুনের প্রথমার্ধে চিনি উৎপাদন ৩ শতাংশ কমে যাওয়ায় এ ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। তবে ভারতে অনুকূল বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস চিনির দামের আরও বড় উল্লম্ফন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

অন্যদিকে লন্ডনের বাজারে কোকোর দাম ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি টন ৩ হাজার ৭২৬ পাউন্ডে নেমেছে। তবে শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ আইভরি কোস্টে আগামী মৌসুমে কোকো উৎপাদন প্রায় ২০ শতাংশ কমতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে কোকোর দাম এখনও তুলনামূলক উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে।