স্পোর্টসে ডেস্ক

দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্সের সামনে সুযোগ ছিল ব্রাজিলের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার। তবে সেই স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন। ২০১০ সালে প্রথমবার ফাইনালে উঠে শিরোপা জিতেছিল ‘লা রোজা’। এবার তাদের সামনে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি।

রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেন মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ীর।

ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খেলতে থাকে স্পেন। মাঝমাঠে রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইসের নেতৃত্বে আক্রমণ গড়ে তোলার চেষ্টা চালায় তারা। অন্যদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ওসমান দেম্বেলের গতিকে কাজে লাগিয়ে পাল্টা আক্রমণের অপেক্ষায় ছিল ফ্রান্স।

ম্যাচের ১৯তম মিনিটে স্পেনের আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে লামিনে ইয়ামালকে বক্সের ভেতরে ফাউল করেন লুকাস দিনিয়ে। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দিলে ২২তম মিনিটে স্পট কিক থেকে শান্ত মাথায় গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন মিকেল ওয়ারজাবাল। প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্পেন।

বিরতির পরও আধিপত্য ধরে রাখে স্প্যানিশরা। ৫৮তম মিনিটে ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরোর গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০। চার মিনিট পর ইয়ামাল একক নৈপুণ্যে বল জালে জড়ালেও খুব অল্প ব্যবধানে অফসাইড হওয়ায় গোলটি বাতিল হয়।

শেষ সময়ে ফ্রান্স আক্রমণের চাপ বাড়ালেও স্পেনের রক্ষণভাগ দৃঢ়তা দেখিয়ে কোনো সুযোগ দেয়নি। ফলে ২-০ গোলের জয় নিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

ম্যাচে লামিনে ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপ্পের লড়াইও ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। স্পেনের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে নিজের ১৯তম জন্মদিনকে আরও স্মরণীয় করে রাখেন তরুণ এই উইঙ্গার।

দুই দলের এটি ছিল ৩৯তম মুখোমুখি লড়াই। এই জয়ের মাধ্যমে স্পেন তাদের জয়ের সংখ্যা বাড়িয়ে ১৯-এ নিয়ে যায়, যেখানে ফ্রান্সের জয় ১৩টি। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, টানা তিনটি বড় টুর্নামেন্টে ফ্রান্সকে হারানোর কৃতিত্ব দেখাল স্পেন।

এদিকে, ফাইনালে যদি ইংল্যান্ড জায়গা করে নেয়, তবে পুরুষ ও নারী—দুই বিভাগ মিলিয়ে বিশ্বকাপ ও ইউরোতে টানা চারটি ফাইনালে স্পেন ও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার বিরল নজির গড়বে।