মোঃ হাফিজুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার,
রাজধানীর উত্তর শাহজাহানপুরে অবস্থিত হলি আইডিয়াল স্কুল ও হলি প্রি-ক্যাডেট মাদ্রাসার আয়োজনে পালিত হয় বিশ্ব শিক্ষক দিবস। ইউনেস্কোর মতে, বিশ্ব শিক্ষক দিবস শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রতিবছর ৫ অক্টোবর এই দিনটাকে পালন করা হয়। বাংলাদেশ, ভারতসহ বিশ্বের প্রায় ১৭০টি দেশের ৩০ মিলিয়ন শিক্ষক ও ৫০০টি সংগঠন শিক্ষকদের সম্মানার্থে এই দিবসটি উদযাপন করছে। এইদিন বিশ্বব্যাপী শিক্ষকদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন দিবসে এই দিনটি উদযাপন করা হলেও ৫ অক্টোবর মূলত ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব শিক্ষক দিবস। দিবসটি উপলক্ষে Education International প্রতিবছর একটি প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করে থাকে-যা জনসচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে শিক্ষকতা পেশায় অবদানকেও স্মরণ করিয়ে দেয়। বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৪ এর প্রতিপাদ্য হলো-
“Valuing teacher voices: towards a new social contract for education” অর্থাৎ “শিক্ষকের কন্ঠস্বরঃ শিক্ষায় নতুন সামাজিক অঙ্গীকার।“ এ দিবসের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, সারাবিশ্বের সঙ্গে একাত্ম হয়ে প্রতি বছর ইউনেস্কো ঘোষিত প্রতিপাদ্য অনুযায়ী বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন করা। জাতি গঠনে শিক্ষকের ভূমিকা ও অবদান সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া ও গুণী শিক্ষক সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে সকল শিক্ষককে সম্মানিত করা।
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে হলি আইডিয়াল স্কুলের সাবেক শিক্ষকসহ শিক্ষকমন্ডলী আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা শেষে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিশ্ব শিক্ষক দিবস, সফল হোক, সফল হোক, স্লোগানে শাজাহানপুরের মূলসড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের এ্যাড: ডিআইজি জনাব নাবিলা রীনা, চেয়ারম্যান, হলি আইডিয়াল স্কুল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এ্যাসি: ডিরেক্টর জনাব আমিনুল হক। সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ হাফিজুর রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব নাবিলা জাফরিন রীনা বলেন, যে যাই বলুক, শিক্ষকতা পেশা আজও একটি মহান পেশা হিসেবে স্বীকৃত। প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল সে কারণেই বলেছেন, ”যারা শিশুদের শিক্ষাদানে ব্রতী তাঁরা অভিভাবকদের চেয়েও অধিক সন্মানীয়। পিতামাতা আমাদের জন্ম দেয় ঠিকই, শিক্ষকরা জন্মকে সার্থক করে তোলেন।”
বিশেষ অতিথি বক্তব্যে জনাব আমিনুল হক বলেন, শিক্ষকরা হলেন জাতি গঠনের মহান কারিগর। এ মহাবিশ্বে যত আদর্শিক মানুষ রয়েছে, তারা কোন না কোন শিক্ষকের ছত্রছায়ায় গঠিত। শিক্ষকদের দায়িত্ব-কর্তব্য, মর্যাদা ও সমাজ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা করেন জনাব শারমিন আক্তার মারিয়া, জনাব আব্দুল কাইয়ুম খান, জনাব মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক প্রমুখ। সভাপতির বক্তব্যে জনাব মোঃ হাফিজুর রহমান শিক্ষকদের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বলেন, বিগত কয়েক বছরে অতিমারি করোনায় শিক্ষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে যে যৎসামান্য প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে তার ছিটেফোঁটাও পায়নি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অধিকাংশ শিক্ষকগণ। বৈশ্বিক মহামারিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই শিক্ষক সমাজ সরকারের নানা কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছে। এসময় সরকারি কর্মকর্তারা কখনও মুখতুলে তাকায়নি চিরবঞ্চিত শিক্ষকদের মুখপাণে। তাই বিশ্বায়নের এ যুগে বলতে হয়- “ক্ষুধার্ত শিক্ষক দিয়ে তৃষ্ণার্ত শিক্ষার্থীর প্রয়োজন মেটানো প্রায়ই অসম্ভব”।
দেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির মহাবিপ্লবের কথা শোনা গেলেও সরকারি উদ্যোগে প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তার ছোঁয়া লাগেনি আজও। বলা যায়, বিগত কোনো সরকার প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি সুনজর দেয়নি।
একুশ শতকের এই প্রান্তে দাঁড়িয়ে বর্তমান সরকারের কাছে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বিশেষভাবে প্রত্যাশা- প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্তির মাধ্যমে পুরো শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের আওতায় আনতে হবে। নচেৎ বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে কাঙ্ক্ষিত জাতি গঠনে পিছিয়ে পড়বে প্রিয় মাতৃভূমি আমাদের এই বাংলাদেশ।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে হলি আইডিয়াল স্কুল কর্তৃক ইভিনিং শিফটে “পথশিশু শিক্ষা কার্যক্রম” আরম্ভ করার ঘোষণা করা হয়। “পথশিশু শিক্ষা কার্যক্রম” এর শুভ উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহ: পরিচালক জনাব আমিনুল হক। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে সকল শিক্ষকের প্রতি হৃদয়ের গভীর থেকে ভালবাসা, সম্মান, বিনম্র শ্রদ্ধা ও সুস্বাস্থ্য কামনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করা হয়।









