খুলনা প্রতিনিধি: শৈলকুপার রয়েড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসার শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজনের ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল আজিজের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ মাদ্রাসার নতুন বিল্ডিংয়ে অফিস কক্ষ বানিয়ে বসেছে। অন্যদিকে, মাদ্রাসার সুপার কামাল হোসেন, সহ সুপার লিয়াকত হোসেন এবং এবতেদায়ী প্রধানসহ অধিকাংশ শিক্ষক পুরাতন বিল্ডিংয়ের অফিস কক্ষে অবস্থান করছেন।

মাদ্রাসার সুপার কামাল হোসেন জানান, সহ সুপার লিয়াকত হোসেন শীঘ্রই অবসরে যাবেন, তাই তার অনুরোধে পুরাতন অফিস কক্ষে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু আব্দুল আজিজ তার কথা না শুনে নতুন বিল্ডিংয়ে কিছু শিক্ষককে নিয়ে আলাদা অফিস গঠন করেছেন।

মাদ্রাসার হাজিরা খাতার নিয়ন্ত্রণ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অন্যান্য শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, আব্দুল আজিজ স্যার হাজিরা খাতা লুকিয়ে রাখেন, যাতে অন্য শিক্ষকরা সঠিক সময়ে স্বাক্ষর করতে না পারেন। সরেজমিনে দেখা যায়, আজিজ স্যারের নেতৃত্বে কয়েকজন শিক্ষক সুপারের অনুমতি ছাড়াই মাদ্রাসার দপ্তরের বাড়িতে খিচুড়ি রান্না করে খাচ্ছেন। সুপার কামাল হোসেন বলেন, তিনি তাদেরকে নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু তারা তা মানেননি।

এ বিষয়ে অভিভাবকরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। অভিভাবক খলিলুর রহমান জানান, তার মেয়ে এই মাদ্রাসায় ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী, এবং শিক্ষকদের মধ্যে এই গ্রুপিং চলতে থাকলে তিনি মেয়েকে অন্যত্র ভর্তি করানোর কথা ভাবছেন। আরও একজন অভিভাবক বলেন, আব্দুল আজিজ স্যার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে মিশে মাদ্রাসার শিক্ষকদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করছেন এবং চাঁদা নিয়ে রান্নার আয়োজন করেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. সুলতান মাহমুদ বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গ্রুপিং মেনে নেওয়া হবে না। প্রধানের অনুমতি ছাড়া কোনো কার্যকলাপ আইনত অপরাধ এবং প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, মাদ্রাসার শিক্ষকদের এই বিভক্তি দ্রুত বন্ধ না হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।