অনলাইন ডেস্ক গত তিনদিনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে শাহবাগ থানা চত্বরে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook-এ কটূক্তিমূলক পোস্টকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল মামলা করতে থানায় গেলে সেখানে উপস্থিত ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয় পরিস্থিতি।

এ সময় ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিকের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের থানার ভেতরে আটকা পড়েন এবং পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হয়। সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি তদন্তে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষক ড. মো. আনোয়ার হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি এবং সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুব কায়সারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই শিক্ষার্থী ও প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, যা উদ্বেগজনক। তিনি জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানান।

এর আগে মঙ্গলবার সরকারি সিটি কলেজ-এ গ্রাফিতি পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন। কলেজ ক্যাম্পাস ও নিউমার্কেট এলাকায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় সংসদে কথা বলেন শাহজাহান চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বের সহিংসতার সঙ্গে জড়িতরাই এ হামলার পেছনে রয়েছে। তবে সালাহউদ্দিন আহমদ তদন্ত ছাড়া কাউকে দোষারোপ না করার আহ্বান জানান।

পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কলেজটিতে ক্লাস ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

এর একদিন পর বৃহস্পতিবার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ-এ পূর্বঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কার্যালয় ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ ওঠে। দুই সংগঠনই একে অপরকে দায়ী করেছে।

এছাড়া একইদিন কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-এ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষের কর্মীরা। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মাজারুল ইসলাম জানান, একটি ব্যক্তিগত বিরোধ থেকেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, তারা সবসময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করছেন এবং নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ সিবগা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং তারা শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় অবস্থান নেবেন।

সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।