সাহিবুল ইসলাম, ঝালকাঠি
মাত্র ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ধানসিঁড়ি নদী একসময় প্রকৃতি ও মানুষের জীবনে অপরিসীম গুরুত্ব বহন করত। তবে, কালের বিবর্তনে পৃথিবীর আরও অনেক নদীর মতোই এটি খালে রূপান্তরিত হয়েছে। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে নদীটি পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
ধানসিঁড়ি নদীর ইতিহাস ও নামকরণ নিয়ে রয়েছে এক চমকপ্রদ মিথ। স্থানীয়দের মতে, এক ডোঙা ধান সিদ্ধ হতে যত সময় লাগত, ঠিক ততক্ষণেই নদীটি পার হওয়া যেত। এই কারণেই নদীটির প্রথম নাম ছিল “ধানসিদ্ধ নদী।” সময়ের সাথে সাথে এটি পরিচিতি পায় “ধানসিঁড়ি” নামে।
কবিতায় অমর ধানসিঁড়ি
ঝালকাঠি শহরের অদূরে অবস্থিত ধানসিঁড়ি নদী কবি জীবনানন্দ দাশের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করেছিল। রূপসী বাংলার এই কবি তাঁর কবিতায় বারবার ধানসিঁড়ি নদীর নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁর কলমে ধানসিঁড়ি শুধু একটি নদী নয়, বরং প্রকৃতির এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠেছে।
নদীর গতিপথ
ধানসিঁড়ি নদীর উৎস ঝালকাঠির সুগন্ধা নদী। সেখান থেকে এটি মোল্লাবাড়ি, বারৈবাড়ি, রাজাপুরের হাইলকাঠি, ইন্দ্রপাশা ও বাঁশতলা গ্রামের বুক চিরে বয়ে গিয়ে রাজাপুরের জলাঙ্গী (জাঙ্গালিয়া নদী) মোহনায় গিয়ে মিশেছে।
বিপন্নতার আশঙ্কা
একসময় গ্রামীণ জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা এই নদী আজ তার গৌরব হারিয়েছে। খালে পরিণত হওয়া এই নদীটির ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত। স্থানীয় মানুষ এবং পরিবেশবিদরা মনে করছেন, যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে একদিন ধানসিঁড়ি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যেতে পারে।
ধানসিঁড়ি নদীর সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য শুধু ঝালকাঠি নয়, গোটা বাংলার প্রকৃতি ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতায় অমর হয়ে থাকা এই নদী আজও অনেককে মুগ্ধ করে, তবে তা শুধুই স্মৃতির আকারে।









