জেলা প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী উপজেলায় ব্যবসায়ী নিয়াজ মোশের্বদ তনয়ের আত্মহত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী ফারিয়া জান্নাতি মীম, চাচা শ্বশুর আতিক মঞ্জু গাজী, শ্বশুর ফারুক গাজীসহ ১১ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে তনয়ের বড় বোন অ্যাডভোকেট তানিয়া আক্তার বাদী হয়ে আমতলী থানায় এই মামলা দায়ের করেন।
মামলার প্রধান আসামি মীমের বড় ভাই মো. খালিদকে পুলিশ সেদিন রাতেই গ্রেপ্তার করে এবং শুক্রবার বিকেলে তাকে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায়।
আমতলী থানার ওসি মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ জানান, তনয়কে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, চার বছর আগে আমতলী উপজেলার গুরুদল গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী নিয়াজ মোশের্বদ তনয়ের সঙ্গে চাওড়া চলাভাঙ্গা গ্রামের ফারিয়া জান্নাতি মীমের বিয়ে হয়। বিয়ের ছয় মাস পর তনয় জানতে পারেন, তার স্ত্রীর আরও একটি বিয়ে হয়েছিল, যা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
পরে মীম তারেক হাসান বাহাদুর নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ভিডিও শেয়ার করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তনয় গত ২৪ সেপ্টেম্বর স্ত্রীকে তালাক দেন।
এরপর মীম তনয়ের বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করলে পুলিশ তনয়কে গ্রেপ্তার করে। জেল থেকে বের হওয়ার পরেও তনয়ের ওপর নানাভাবে মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। ২১ নভেম্বর চাচা শ্বশুর আতিক মঞ্জু গাজীর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা তনয়কে হত্যার হুমকি দেয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মীম ও তার পরিবারের নির্যাতন সইতে না পেরে তনয় ২৯ নভেম্বর ভোরে বিষপান করেন। মৃত্যুর আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে স্ত্রী ও তার পরিবারের বুলিং এবং হয়রানির কথা তুলে ধরেন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, কিন্তু শনিবার দুপুরে তিনি মারা যান।
তনয়ের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রবিবার সকালে প্রায় ১০ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। meanwhile, প্রধান আসামি মীম ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।
মামলার বাদী অ্যাডভোকেট তানিয়া আক্তার বলেন, “আমার ভাইকে আত্মহত্যার প্ররোচনাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। আশা করি ন্যায়বিচার পাব।”









