ওমানে বৈঠকের আগে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ ও প্রকাশ্যে ভুল স্বীকারের দাবি ওয়াশিংটনের

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধে ওমানে অনুষ্ঠেয় আলোচনা সামনে রেখে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে সব ধরনের হামলা বন্ধে তেহরানের আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক জাহাজে হামলার ঘটনাটি ‘ভুল’ ছিল—এ কথা ইরানকে প্রকাশ্যে স্বীকার করারও আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

শনিবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের বরাতে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় স্বীকার করেছে যে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা একটি ভুল ছিল। তবে এ ঘটনার দায় তারা দেশের একটি উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর ওপর চাপিয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। যদিও উভয় পক্ষই পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা নিরসনে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তেহরান জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির আলোচনা নস্যাৎ করতেই একটি উগ্রপন্থী গোষ্ঠী ওই হামলা চালিয়েছিল। তারা আবারও আলোচনায় ফিরে এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ঘোষণা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে হবে। অন্যথায় এর পরিণতি তেহরানের জন্য অনুকূল হবে না বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরান আলোচনার অনুরোধ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাতে সম্মত হয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, আগের যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা আর নেই।

ওমানে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। প্রতিনিধি দলে থাকবেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমন এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে কাতারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল শুক্রবার তেহরান সফর করেছে।