স্টাফ রিপোর্টার

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে। তবে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও ভাড়ায় ছাড়ের কারণে নৌপথে যাত্রা এবার অনেকটাই স্বস্তিদায়ক বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে সদরঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মানুষের ভিড় বাড়লেও টার্মিনালে শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রয়েছে। নির্ধারিত সময়েই যাত্রীরা লঞ্চে উঠতে পারছেন এবং অধিকাংশ লঞ্চ সময়মতো ঘাট ছেড়ে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপর উপস্থিতিও চোখে পড়েছে।

ফ্রি কুলি, ট্রলি ও হুইলচেয়ার সেবায় স্বস্তি
এবার ঈদযাত্রায় যাত্রীদের জন্য চালু হয়েছে বিনামূল্যে কুলি, ট্রলি ও হুইলচেয়ার সেবা। ফলে আগের মতো কুলি ভাড়া নিয়ে দরকষাকষি বা হয়রানির অভিযোগ নেই। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু ও প্রতিবন্ধী যাত্রীরা এ সুবিধায় বেশি উপকৃত হচ্ছেন। টার্মিনালের প্রবেশমুখেই সারিবদ্ধভাবে ট্রলি ও হুইলচেয়ার রাখা হয়েছে এবং স্বেচ্ছাসেবীরা মালামাল বহনে সহায়তা করছেন।

ভোলাগামী এক যাত্রী জানান, আগের বছরের তুলনায় এবার ব্যবস্থাপনা অনেক উন্নত। বিনা খরচে মালামাল বহনের সুবিধা পেয়ে তারা সন্তুষ্ট।

বিআইডব্লিউটিএর বন্দর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, ঈদের আগে ও পরে মোট ১০ দিন এই ফ্রি সেবা চালু থাকবে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে নিজস্ব অর্থায়নে কুলি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং হুইলচেয়ারের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।

চাপ কমাতে বিকল্প ঘাটে লঞ্চ চলাচল
সদরঘাটের চাপ কমাতে বছিলা ও শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট থেকেও বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এসব ঘাট থেকে প্রতিদিন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বিভিন্ন রুটে লঞ্চ চলাচল করছে। প্রয়োজনে যাত্রীর চাপ বাড়লে লঞ্চের সংখ্যাও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিরাপত্তায় কড়া নজরদারি
ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে টার্মিনালজুড়ে সিসিটিভি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। সাদা পোশাকেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে পকেটমারসহ কোনো অপরাধ সংঘটিত না হয়।

দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অনিয়ম বা হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ভাড়ায় ছাড়, নেই অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগ
ঈদকে ঘিরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ সাধারণত থাকলেও এবার তার ব্যতিক্রম দেখা গেছে। বরং সরকার নির্ধারিত ভাড়ার ওপর ১০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছেন লঞ্চ মালিকরা। এতে যাত্রীরা আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন।

এক যাত্রী জানান, পরিবারের কয়েকজনের টিকিটে ভালো পরিমাণ টাকা সাশ্রয় হয়েছে, যা ঈদের খরচে বাড়তি সহায়তা দেবে।

জ্বালানি সংকট নিয়ে শঙ্কা
তবে লঞ্চ মালিকরা জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, পর্যাপ্ত জ্বালানি না পেলে কিছু রুটে লঞ্চ চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে জ্বালানি সংকট নেই এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও বাড়তি সুবিধার কারণে এবারের ঈদযাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হয়েছে। তবে সামনে যাত্রীর চাপ বাড়লে পরিস্থিতি কেমন থাকে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।