দুই দশকের বেশি অভিনয় জীবনে অপূর্ব শুধুমাত্র একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, যা হলো ‘গ্যাংস্টার রিটার্নস’। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। এরপর বেশ কিছু প্রযোজক ও পরিচালকের আগ্রহ ছিল তাঁকে নিয়ে সিনেমা বানানোর, তবে অপূর্ব তখন কোনও প্রজেক্টে সম্মতি দেননি।
গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে, অবশেষে অপূর্ব রাজি হন একটি নতুন চলচ্চিত্রে কাজ করতে। তবে, এটি বাংলাদেশে নয়; বরং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রযোজক ও পরিচালকের আগ্রহে তিনি সেখানে ছবিটি করার জন্য কথাবার্তা শুরু করেন। গল্প পছন্দ হওয়ার পর তিনি ছবিটিতে অভিনয় করতে সম্মত হন।
এখন জানা গেছে, ছবিটি মুক্তির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরে ‘চালচিত্র’ নামের এই চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাবে। অপূর্বের ভক্তদের জন্য এটি একটি নতুন chapter হতে চলেছে, যা তাদের জন্য অনেক উত্তেজনা নিয়ে আসবে।

পশ্চিমবঙ্গের পরিচালক প্রতীম ডি গুপ্তর ‘চালচিত্র’ সিনেমার মাধ্যমে ঢাকার জনপ্রিয় অভিনেতা অপূর্বের টালিউডে অভিষেক হতে যাচ্ছে। গত বছর শুটিং শেষ হলেও সিনেমাটির মুক্তির সম্পর্কে কোন তথ্য জানা যাচ্ছিল না। অবশেষে সুখবরটি জানিয়েছেন সিনেমার প্রযোজক ফিরদৌসুল হাসান। তিনি জানান, এ বছরের বড়দিনে পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ইনভেস্টিগেটিভ থ্রিলারটি।
‘চালচিত্র’ ছবিতে অপূর্বের পাশাপাশি পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকায় দেখা যাবে টোটা রায়চৌধুরী, অনির্বাণ চক্রবর্তী, শান্তনু মাহেশ্বরী ও ইন্দ্রজিৎ বসুকে। ছবিতে আরও আছেন রাইমা সেন ও স্বস্তিকা দত্ত। গতকাল প্রকাশিত চরিত্রের ফার্স্টলুকে অপূর্বকে লাল পাঞ্জাবিতে ও গালভর্তি দাড়িতে কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখা গেছে।
জানা গেছে, ‘চালচিত্র’ সিনেমায় অপূর্ব অভিনয় করেছেন একটি রহস্যময় চরিত্রে। নির্মাতা প্রতীম ডি গুপ্ত জানিয়েছেন, সিনেমার গল্প কলকাতা শহরকে কেন্দ্র করে। পূজার আগে শহরে একের পর এক মেয়ে খুন হচ্ছে, এবং কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার একদল অফিসার এই সিরিয়াল কিলিংয়ের তদন্তে নামে। তদন্তে দেখা যায়, খুনের পরে শরীরগুলো যেভাবে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে, তার সঙ্গে ১২ বছরের পুরোনো একটি মামলার মিল পাওয়া যায়। রহস্য উদ্ঘাটনে সাহায্য করার জন্য এক রহস্যময় পুরুষের আগমন ঘটে, যিনি অপূর্বের চরিত্র।
সিনেমাটি নিয়ে অপূর্ব সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “এটা তো থ্রিলার। একধরনের লুকোচুরি খেলা চলতে থাকবে গল্পজুড়ে। গল্প নিয়ে কিছু বলা নিষেধ আছে। শুধু এটুকু বলি, অসাধারণ গল্প। দারুণ টিম। আমরা চমৎকার পরিবেশে কাজ করেছি। এ ধরনের একটি বড় কাজে যুক্ত হতে পেরে আমি খুবই খুশি। যেন নিজের অভিনয় দিয়ে বাংলাদেশের মান রাখতে পারি, দর্শকের মন জয় করতে পারি।”
নির্মাতা প্রতীম ডি গুপ্ত জানিয়েছেন, “চালচিত্র” থ্রিলার হলেও পারিবারিক সম্পর্ক ও আবেগের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সিনেমার অ্যাকশনের দিকেও বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রযোজক ফিরদৌসুল হাসান বলেন, “মূলত ‘কপ’ মুভির মতো তৈরি করতে চেয়েছি ‘চালচিত্র’।”
এভাবে অপূর্ব ও টিমের বিভিন্ন মন্তব্যে স্পষ্ট, তাঁরা সিনেমাটি নিয়ে কতটা উত্সাহী এবং কাজটি দর্শকদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।









