পুঁজিবাজার প্রতিবেদক

ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধচক্রের বিস্তারের কারণে প্রচলিত পুলিশিং ব্যবস্থায় যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি।

যুক্তরাষ্ট্রের New York-এ United Nations সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত পঞ্চম United Nations Chiefs of Police Summit 2026-এর প্রথম প্লেনারি অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

দুই দিনব্যাপী (৭-৮ জুলাই) আয়োজিত এ সম্মেলনে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পুলিশ প্রধান ও নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন। সম্মেলনে জাতিসংঘ পুলিশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা, পুলিশিংয়ে উদ্ভাবন ও নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তঃদেশীয় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। তাই ভবিষ্যতের বাস্তবতা মোকাবিলায় আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং দক্ষ পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

বাংলাদেশকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের ফর্মড পুলিশ ইউনিট (এফপিইউ) আধুনিক ও যুগোপযোগীভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে সোয়াত, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সাইবার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ তদন্ত, ফরেনসিক, ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং ইন্টেলিজেন্স-লেড পুলিশিংয়ের সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সালাউদ্দিন আহমদ বিশ্বব্যাপী জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ‘জাতিসংঘ পুলিশ জ্ঞান ও উদ্ভাবন নেটওয়ার্ক’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে বার্ষিক এনভায়রনমেন্ট পুলিশিং কনফারেন্স আয়োজনেরও প্রস্তাব করেন।

তিনি শান্তি, মানবতা ও পেশাদারিত্বের প্রতি দায়বদ্ধ, উদ্ভাবনী এবং অভিযোজনক্ষম জাতিসংঘ পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

সম্মেলনে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধি ছাড়াও শান্তিরক্ষা কার্যক্রম (DPO), অপারেশনাল সাপোর্ট (DOS) এবং রাজনৈতিক ও শান্তি বিনির্মাণবিষয়ক (DPPA)-এর আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেলরা উপস্থিত ছিলেন।