নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা দেশে বীমা খাতে বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় নন-লাইফ বিমা কোম্পানিগুলোর নিয়ম না মানার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। আইনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও অধিকাংশ কোম্পানি সরকারি সিকিউরিটিজ বা বন্ডে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বিনিয়োগ করছে না।
আইডিআরএ (বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ) পরিচালিত তদন্তে জানা গেছে, ৭টি নন-লাইফ বিমা কোম্পানি সরকারি সিকিউরিটিজে ন্যূনতম ৭.৫০ শতাংশ বিনিয়োগের মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো হলো:
- কন্টিনেন্টাল ইনস্যুরেন্স লিমিটেড
- ফিনিক্স ইনস্যুরেন্স লিমিটেড
- ইস্টার্ন ইনস্যুরেন্স লিমিটেড
- নর্দার্ন জেনারেল ইনস্যুরেন্স লিমিটেড
- ইসলামী কমার্শিয়াল ইনস্যুরেন্স লিমিটেড
- এক্সপ্রেস ইনস্যুরেন্স লিমিটেড
- পিপলস ইনস্যুরেন্স লিমিটেড
আইন লঙ্ঘনের চিত্র
২০১৯ সালের ‘নন-লাইফ বিমাকারীর সম্পদ বিনিয়োগ ও সংরক্ষণ প্রবিধানমালা’ অনুযায়ী, প্রতিটি কোম্পানিকে তাদের মোট সম্পদের ৭.৫০ শতাংশ সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ কোম্পানি এই মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ:
- পিপলস ইনস্যুরেন্স বিনিয়োগ করেছে মোট সম্পদের মাত্র ৫.৩৩ শতাংশ।
- কন্টিনেন্টাল ইনস্যুরেন্স বিনিয়োগ করেছে ২.০২ শতাংশ।
- ফিনিক্স ইনস্যুরেন্স বিনিয়োগ করেছে ১.৮৪ শতাংশ।
- এক্সপ্রেস ইনস্যুরেন্স বিনিয়োগ করেছে ০.৫৯ শতাংশ।
- নর্দার্ন জেনারেল ইনস্যুরেন্স বিনিয়োগ করেছে ৬.৪৩ শতাংশ।
এদিকে, ইস্টার্ন ইনস্যুরেন্স কোনো বিনিয়োগই করেনি বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
কোম্পানিগুলোর প্রতিক্রিয়া
ইস্টার্ন ইনস্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হাসান তারেক বলেন, “তদন্তের সময় কোনো বিনিয়োগ ছিল না। কিন্তু এখন আইন অনুযায়ী বিনিয়োগ করেছি এবং নির্ধারিত সীমার চেয়েও বেশি বিনিয়োগ রয়েছে।”
ইসলামী কমার্শিয়াল ইনস্যুরেন্সের সিইও কাজী মোকাররম দস্তগীর দাবি করেন, “আমাদের শরিয়াহ বোর্ডের নির্দেশনা অনুসারে বিনিয়োগ করতে হয়। তবে এখন আইডিআরএর নির্দেশনা মেনে বিনিয়োগের শর্ত পূরণ করেছি।”
নিয়ন্ত্রক সংস্থার পদক্ষেপ
আইডিআরএ ২০২৩ সালে কোম্পানিগুলোর অফিস পরিদর্শন করে এ অনিয়ম চিহ্নিত করে। বিনিয়োগ বিধিমালা লঙ্ঘনের জন্য মেঘনা ইনস্যুরেন্স, ঢাকা ইনস্যুরেন্স, ক্রিস্টাল ইনস্যুরেন্স ও অগ্রণী ইনস্যুরেন্স-কে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
আইডিআরএর মুখপাত্র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “পরিদর্শনে দেখা গেছে, কোম্পানিগুলো শুধু সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগে নয়, তাদের ব্যবস্থাপনায়ও বড় ধরনের অনিয়ম করছে। এসব অনিয়ম রোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
বিশেষজ্ঞদের মত
বিমা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের নিয়ম লঙ্ঘন কেবল কোম্পানিগুলোর উদাসীনতার ফল নয়, এটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বল ব্যবস্থাপনারও প্রতিফলন। তারা বলছেন, কোম্পানিগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে এই প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে।









