দৈনিক পুঁজিবাজার: বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের আব্দুল মজিদ খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র পার্থের বিরুদ্ধে এসএসসি টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকাশ চন্দ্র পার্থ তার প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার আগের দিন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে টিউটোরিয়াল টেস্ট নেন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কিছু শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, যারা তার কাছে প্রাইভেট পড়েন, তারা পরীক্ষা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরই উত্তর লিখে বের হয়ে যান। এক শিক্ষার্থী জানান, “আমরা যারা তার কাছে প্রাইভেট পড়ি না, তারা কিছুই লিখতে পারিনি। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

সরেজমিনে অনুসন্ধান ও তথ্য

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিকাশ চন্দ্র তার বাড়িতে প্রায় ২০-২৫ জন শিক্ষার্থীর কোচিং ক্লাস পরিচালনা করেন। বিভিন্ন মেসেঞ্জার গ্রুপে তিনি প্রশ্নের উত্তর সরবরাহ করেন, যেখানে তিনিই গ্রুপের এডমিন। এ ছাড়াও শিক্ষার্থীদের খাতায় প্রশ্নের ফটোকপি দেওয়া হয়।

শিক্ষকের প্রতিক্রিয়া

শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র প্রথমে গণমাধ্যমে কথা বলতে অস্বীকার করেন, পরে তিনি দাবি করেন, “আমি যে প্রশ্নগুলো ফাঁস করেছি, এগুলো পরীক্ষার সঙ্গে মিলবে না।” তবে পরীক্ষা শেষে জানা যায়, প্রশ্নপত্রের অনেক উত্তর পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে মিলে গিয়েছিল। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বিদ্যালয় ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, “আমাদের স্কুল থেকে প্রশ্ন ফাঁস হয়নি। বিকাশ চন্দ্র কোথা থেকে প্রশ্ন পেয়েছেন, তা আমি জানি না।” উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা বীথিকা সরকার জানান, “ইউএনও স্যারের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। প্রধান শিক্ষককে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বরিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া

এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, বিকাশ চন্দ্র বহু বছর ধরেই কোচিং বাণিজ্যে লিপ্ত এবং নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন ফাঁস করে থাকেন। তারা দ্রুত এ বিষয়ে সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।