কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং অবিলম্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক। গতকাল সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক সমাবেশ’ কর্মসূচিতে এসব দাবি তুলে ধরেন তারা। 

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সাইদ ফেরদৌস। তিনি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনারা শিক্ষার্থীদের প্রতিপক্ষ ভাবছেন! কিন্তু শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের খোলনলচে পাল্টে দিতে এসেছে। স্বাধীনতার পর থেকে গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রে যে লাগাতার নৈরাজ্য চলছে, হলগুলোয় সুপরিকল্পিতভাবে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের যে নিপীড়ন চলেছে, সেসব পাল্টে এসব শিক্ষার্থী নতুন ইতিহাস লেখার পথ তৈরি করেছে। সেই শিক্ষার্থীদের প্রতিটি দাবির প্রতি আমরা সমর্থন জানাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘ছাত্রদের মৃত্যুতে যে ব্যক্তি, যে প্রতিষ্ঠান, যে পদধারী নেতা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে ব্যক্তি, যে বিচারসংশ্লিষ্ট লোক, যে শিক্ষকের দায় আছে, তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হোক। আমরা শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ও বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার দাবিকে সমর্থন করি। কিন্তু সবার আগে হত্যা বন্ধ হোক; সবার আগে গুম-অপহরণ বন্ধ হোক।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল হাসিব চৌধুরী বলেন, ‘১৯৬৯ সালে অধ্যাপক শামসুজ্জোহা ছাত্রদের রক্ষা করতে গিয়ে শহীদ হয়েছিলেন। আমরা এখানে যারা জমায়েত হয়েছি, আমরা শহীদ শামসুজ্জোহার উত্তরসূরি। আমাদের যেসব সন্তান, যেসব শিক্ষার্থী অধিকারের জন্য বৈষম্যহীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে লড়াই করছে, তারা হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধার উত্তরসূরি। এ লড়াইয়ের ফল কী হবে, সেটা ইতিহাসই আমাদের নির্দেশ করছে। আর আমাদের করণীয় কী, সেটা ইতিহাস আমাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। আমরা সে দায়িত্ব নিশ্চয় পালন করব।’

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুশাদ ফরিদী, আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হারুন চৌধুরী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আহমদ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক সায়মন রেজা, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ নাহিদ নেওয়াজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসুদ ইমরান, গ্রিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রিতু শরমিন ও স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক তামান্না মাকসুদ।