
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘদিন অব্যবহৃত বা সীমিত ব্যবহারে থাকা জেলা পরিষদের সম্পদকে জনকল্যাণমূলক কাজে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে কুমিল্লা জেলা পরিষদ। এর অংশ হিসেবে দাউদকান্দিতে আধুনিক ডাকবাংলো, অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম এবং বহুমুখী সুবিধাসম্পন্ন মাল্টিকমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলা পরিষদের মালিকানাধীন জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দাউদকান্দি উপজেলা সফরে এসে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া উপজেলা পরিষদের ডাকবাংলো, দাউদকান্দি বাজারে অবস্থিত জেলা পরিষদের জমি এবং পৌর ভবনের পাশের জেলা পরিষদের অকৃষি জমি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় জেলা পরিষদের অবস্থান তুলে ধরেন।
“জনগণের সম্পদ কোনোভাবেই অবৈধ দখলে থাকতে দেওয়া হবে না। সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণ এবং জনকল্যাণমূলক কাজে যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে জেলা পরিষদ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
মো. মোস্তাক মিয়া, প্রশাসক, কুমিল্লা জেলা পরিষদ পরিদর্শনকালে প্রশাসক জানান, পৌর ভবনের পাশের জেলা পরিষদের অকৃষি জমিতে একটি আধুনিক ডাকবাংলো, অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম এবং বহুমুখী সুবিধাসম্পন্ন মাল্টিকমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব স্থাপনা বাস্তবায়িত হলে সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
স্থানীয়দের মতে, দাউদকান্দির মতো গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্রে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে উঠলে নাগরিক সেবার পরিধি বাড়বে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
এদিকে দাউদকান্দি বাজারে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদের নির্দেশ দেন প্রশাসক। তিনি সংশ্লিষ্টদের সরকারি জমি উদ্ধার ও সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি নূর মো. সেলিম সরকার, জসিম উদ্দিন আহমেদ, ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, কাউসার আলম সরকারসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দাউদকান্দিকে আরও আধুনিক ও সেবাবান্ধব নগরকেন্দ্রে পরিণত করার প্রত্যাশা স্থানীয়দের। তাদের বিশ্বাস, জেলা পরিষদের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।






