বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে নতুন এক ভাইরাস, এইচএমপিভি। করোনাভাইরাসের দুঃসহ স্মৃতি তাজা থাকা মানুষের মধ্যে আবারও সেই ধরনের বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষত চীন ও জাপানে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

ভাইরাসের প্রকোপ:
চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে, হাসপাতালগুলোতে করোনার সময়কার মতো ভিড় জমেছে। একই পরিস্থিতি জাপানেও। দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, চলতি শীত মৌসুমে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ লাখ ছাড়িয়ে গেছে

বিশেষজ্ঞরা এই ভাইরাসটিকে ইনফ্লুয়েঞ্জা ধাঁচের বলে আখ্যা দিয়েছেন, তবে এটি করোনার মতোই ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।

সরকারি প্রতিক্রিয়া ও পরামর্শ:
এইচএমপিভি নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়লেও চীনের সরকার এটিকে সাধারণ শীতকালীন শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বলে উল্লেখ করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এক বিবৃতিতে বলেন, “উত্তর গোলার্ধের শীতের সময়ে শ্বাসকষ্টজনিত সংক্রমণ বেড়ে যায়। এটি তেমনই একটি সংক্রমণ। এখন পর্যন্ত বড় কোনো বিপদের খবর পাওয়া যায়নি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “পর্যটকরা চিনে নিশ্চিন্তে ভ্রমণ করতে পারেন। তবে শীতে ভ্রমণের সময় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।”

বিশ্বজুড়ে শঙ্কা:
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা চীনের সরকার এখনও এই ভাইরাস নিয়ে কোনো বিশেষ সতর্কতা জারি করেনি। তবে সংক্রমণের গতিপ্রকৃতি দেখে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভাইরাসটি দ্রুত মহামারি আকার ধারণ করতে পারে

যুক্তরাজ্যের সাউথ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র গবেষক ড. মাইকেল হেড বলেছেন, “ভবিষ্যতে একটি নতুন মহামারির আশঙ্কা রয়েছে, তবে কোন রোগটি মহামারি আকার ধারণ করবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। সম্ভাব্য মহামারির জন্য ডিজিজ-এক্স নাম দেওয়া হয়েছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, এইচএমপিভি আপাতদৃষ্টিতে শীতকালীন রোগ হিসেবে দেখা দিলেও এর বিস্তার ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বিশ্বজুড়ে মানুষের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।