
দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উদ্ধার করা প্রায় ১৬০ কেজি গাঁজা জব্দ না করে মাদক কারবারিদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ বারীকে কুমিল্লা পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুন গভীর রাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি কাভার্ডভ্যান দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিসের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাইট ডিউটিতে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইমাম উদ্দিন এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হাফিজুর রহমান গাড়িটিতে তল্লাশি চালান।
অভিযোগ রয়েছে, তল্লাশির সময় তিনটি বস্তাভর্তি প্রায় ১৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হলেও তা নিয়ম অনুযায়ী জব্দ করে মামলা না দিয়ে রাতেই বিভিন্ন ধাপে মাদক কারবারিদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরে একটি কালো রঙের মাইক্রোবাসে করে গাঁজাগুলো সরিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া কাভার্ডভ্যানটি ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে চালকের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, উদ্ধার করা গাঁজা প্রতি কেজি প্রায় ৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওই রাতে কাভার্ডভ্যানটি আটকের পর চালকের কাছ থেকে গাড়ির চাবি নিয়ে দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সময় কয়েকজন সন্দেহভাজন মাদক কারবারির আনাগোনাও দেখা যায়।
“ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” — খলিলুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি সার্কেল)
অভিযোগের বিষয়ে এসআই মো. ইমাম উদ্দিন বলেন, “আমি ওই রাতে নাইট ডিউটিতে ছিলাম। গাঁজা উদ্ধার ও বিক্রির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
এএসআই হাফিজুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে ইমাম স্যার জানেন। আমি কিছু বলতে পারব না।”
এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দাউদকান্দি থানার ওসি এম এ বারীকে কুমিল্লা পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি নিয়ে সংবাদ হয়েছে। এ বিষয়ে আমার আর কিছু বলার নেই।”
দাউদকান্দি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যেই এমন অভিযোগ জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে অভিযোগের সত্যতা এবং পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা।






