আন্তর্জাতিক ডেস্ক দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদে ফের হামলা চালিয়েছে শত শত ইহুদি বসতিস্থাপনকারী। সোমবার (১৪ এপ্রিল) পাসওভার উৎসবের দ্বিতীয় দিন এ ঘটনায় অংশ নেয় প্রায় ৭০০-এর বেশি ইসরায়েলি, যাদের প্রবেশে সহায়তা করে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী। ফিলিস্তিনি সূত্র ও মিডল ইস্ট মনিটর-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জেরুজালেম গভর্নরেটের প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, এই হামলা ছিল পরিকল্পিত। মসজিদ কমপ্লেক্সে প্রবেশের সময় দখলদারদের সঙ্গে ছিল বিপুলসংখ্যক সশস্ত্র পুলিশ সদস্য, যারা পুরো এলাকাটি ঘিরে রাখে এবং ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের প্রবেশ বাধাগ্রস্ত করে।

এর আগের দিন, রবিবারেও প্রায় ৫০০ জন বসতিস্থাপনকারী একইভাবে মসজিদে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। এভাবে টানা দু’দিন ধরে আল-আকসা চত্বরে ধর্মীয় অবমাননা এবং মুসল্লিদের হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ তুলেছে ফিলিস্তিন প্রশাসন।

ফিলিস্তিনের আওকাফ ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুধু মার্চ মাসেই অন্তত ২১ বার ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা মসজিদ চত্বরে হামলা চালিয়েছে। জেরুজালেম প্রশাসনের হিসাব বলছে, ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসেই ১৩ হাজার ৬৪ জন অবৈধ বসতি স্থাপনকারী মসজিদের পবিত্র এলাকায় অনধিকার প্রবেশ করেছে।

২০০৩ সাল থেকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রায় প্রতিদিনই (শুক্র ও শনিবার ছাড়া) বসতিস্থাপনকারীদের আল-আকসায় প্রবেশের অনুমতি দিয়ে আসছে। এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিরা প্রতিবাদ জানিয়ে এলেও কার্যত পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।

ইহুদি ধর্মাবলম্বীরা যেটিকে ‘টেম্পল মাউন্ট’ হিসেবে দাবি করে, সেখানে তাদের প্রাচীন উপাসনালয় ছিল বলে তারা মনে করে। কিন্তু এই স্থান মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখান থেকেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মেরাজে গিয়েছিলেন—এটি ইসলামে বিশ্বাস।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, পূর্ব জেরুজালেম একটি দখলকৃত অঞ্চল। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইসরায়েল অঞ্চলটি দখল করে এবং ১৯৮০ সালে একতরফাভাবে নিজেদের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে। তবে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আজও তা স্বীকৃতি দেয়নি।

ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করছে, পাসওভারের মতো ধর্মীয় উৎসবকে অজুহাত করে বসতিস্থাপনকারীরা নিয়মিত উস্কানিমূলক কাজ করে চলেছে। এর মাধ্যমে তারা মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও জেরুজালেমের প্রকৃত চরিত্রকে বদলে দিতে চাচ্ছে।