নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘদিন পতনের বৃত্তে আটকে থাকার পর জুলাই মাসের প্রথম কর্মদিবস থেকে দেশের পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এরপর টানা ৬ কর্মদিবস বাজার উত্থানে থাকে। এই সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক বাড়ে ২৬৬ পয়েন্ট।

এমন ইতিবাচক অবস্থায় গতকাল বুধবার বাজারে কিছু সংশোধন হয়। এদিন ডিএসইর সূচক কমে ২৬ পয়েন্ট। আজ (বৃহস্পতিবার) পতন আরও ঘনীভূত হয়। আজ ডিএসইর সূচক সাড়ে ৬৬ পয়েন্টের বেশি নেমে যায়।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আজ ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যে পরিমাণ প্রতিষ্ঠানের দাম বেড়েছে, তার চেয়ে ৯.৫৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের দাম কমেছে। আজ ৬১টি প্রতিষ্ঠানে দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩৪৩টি প্রতিষ্ঠানের দাম কমেছে। এরমধ্যে দেড় শতাধিক কোম্পানির শেয়ার ক্রেতাশুন্য অবস্থায় ছিল।

আজ আগের দিনের মতো লেনদেনের শুরুতে বাজার কিছুটা পতনে থাকলেও বেলা সোয়া ১১টায় ইতিবাচক ধারায় টার্ন নেয়। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেনি। ধারাবাহিক সেল প্রেসারের চাপে বাজার ফের পতনের বৃত্তে আটকে যায়। এরপর দিনভর পতনের বৃত্তে ঘুরপাক খেয়ে লেনদেন শেষ হয়। তবে পতন যতটা হয়েছে, লেনদেনেও ততোটা হ্রাস হয়েছে। এই সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেন যেখানে হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছিল, আজ সেখানে লেনদেন সাড়ে ৬০০ কোটির ঘরে নেমে আসে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর আগে টানা ৬ দিনের উত্থানে ডিএসইর সূচক বেড়েছিল ২৬৬ পয়েন্ট। এই সময়ে যারা শেয়ার কিনেছেন, তারা এই দুই দিন তাদের শেয়ারে মুনাফা তুলছেন। তাদের মুনাফা তোলার চাপেই গতকাল বুধবার এবং আজ বৃহস্পতিবার বাজার ভালো রকম পতনের ধারায় থেকেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আজ এবং গতকাল যারা শেয়ার বিক্রি করেছেন, তাদের অনেকে ১০-১২ শতাংশ মুনাফা পেয়েছেন। কারণ গত দুই দিনই প্রথম ভাগে বেশিরভাগ শেয়ারে দাম ভালো অবস্থায় থেকেছে। যদিও শেষ বেলায় সেল প্রেসারে ৩ শতাংশের সর্বোচ্চ পতনের ঘরে অবস্থান নিয়েছে।

সেই হিসাবে যারা এই দুই দিনে শেয়ার থেকে মুনাফা তুলেছেন, তাদের এখন নতুন করে এন্ট্রি দেয়ার সময় হয়েছে। যে কারণে রোববার থেকে বাজারে সেল প্রেসারের চেয়ে বাই প্রেসার বেশি দেখা যেতে পারে এবং বাজার ইতিবাচক প্রবণতায় টার্ন নিতে পারে। এছাড়াও, গত দুই দিনে সূচক কমেছে ৮৮ পয়েন্টের মতো। সুতরাং পতনের আর তেমন স্পেস নেই।

বাজার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়,  সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৬১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৫০৬ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ২০৭ পয়েন্টে এবং ডিএসই–৩০ সূচক ১৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৪২ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৭ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৬ টির, দর কমেছে ৩৪৩ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮ টির।

ডিএসইতে ৬৬৪ কোটি ২৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৩০২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৯৬৭ কোটি ২২ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১২৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৭৫৭ পয়েন্টে।

সিএসইতে ২৬৭ টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৩ টির দর বেড়েছে, কমেছে ২১২ টির এবং ১২ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৯ কোটি ১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।