পুঁজিবাজার প্রতিবেদক :

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি Khan Brothers PP Woven Bag Industries Ltd. বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করতে আর্থিক প্রতিবেদনে মিথ্যা তথ্য প্রদান, সম্পদের অতিরঞ্জিত মূল্য প্রদর্শন এবং আন্তর্জাতিক হিসাবমান লঙ্ঘনের দায়ে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ও দুই কর্মকর্তাকে মোট ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সম্প্রতি জারি করা এক আদেশে এ জরিমানার বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, গত ২১ মে অনুষ্ঠিত কমিশন সভার সিদ্ধান্তের আলোকে কোম্পানিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এনামুল কবির খান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক তোফায়েল কবির খান এবং পরিচালক মো. রুহুল কবির খান, হযরত আলী ও জারিন কবির খান-কে ২৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) মো. আজিজুল জব্বার-কে ১০ লাখ টাকা এবং কোম্পানি সচিব তপন কুমার সরকার-কে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, জারির ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম জানিয়েছেন, বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ, সিএফও এবং কোম্পানি সচিবের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তদন্তে দেখা গেছে, কোম্পানিটি ২০২৩ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অনিয়ম ছিল মজুদ পণ্যের মূল্য অতিরঞ্জিত দেখানো। আর্থিক প্রতিবেদনে ৫৯ কোটি ৭৪ লাখ ৬০ হাজার ১৭৭ টাকার কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য মজুদ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হলেও নিরীক্ষকের যাচাইয়ে প্রায় ৪০ কোটি ৭০ লাখ ৩৭ হাজার ৯৮৫ টাকার ঘাটতি পাওয়া যায়।

এছাড়া কোম্পানির ৪৬১.৫০ ডেসিমেল জমির একই সীমানার মধ্যে ‘খান ব্রাদার্স ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ এবং ‘খান ব্রাদার্স মার্বেল অ্যান্ড গ্রানাইট লিমিটেড’ বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও এর বিপরীতে কোনো ভাড়া বা লিজ আয় আর্থিক প্রতিবেদনে দেখানো হয়নি।

অন্যদিকে প্রায় ৬ কোটি ২২ লাখ টাকার অনিশ্চিত রপ্তানি বিল দীর্ঘদিন অনাদায়ী থাকলেও তার বিপরীতে কোনো সঞ্চিতি (Provision) রাখা হয়নি, যা আন্তর্জাতিক হিসাবমানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, সাব-কন্ট্রাক্ট কাজের বিপরীতে ১০ কোটি ৯ লাখ টাকা আয় দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর (AIT) পরিশোধের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিএসইসি মনে করছে, এসব অনিয়ম বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ক্ষুণ্ন করেছে। তাই বাজারে সুশাসন নিশ্চিত করতে কমিশন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।