
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন সামরিক হুঁশিয়ারির পর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক স্থানে রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগের দিনও দেশটির বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালানো হয়েছিল। গত জুনে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘাত বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
বুধবার (৮ জুলাই) রাতে চালানো হামলার বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের স্বাধীনতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে—এমন সক্ষমতা দুর্বল করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইরানশাহর বিমানবন্দরে হামলায় একজন দমকলকর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া বন্দর আব্বাস, কোনারক, চাবাহার, বুশেহর এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আক কালা এলাকাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, চাবাহারে একটি সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার ও একটি ডিপো এবং আক কালায় একটি রেলওয়ে সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলার পর ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ইরান এ ঘটনার জবাব দেবে।
এর আগে মঙ্গলবার রাতেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি হামলার জবাব হিসেবে ওই অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। ইরানের সেনাবাহিনীর বরাতে ইরনা জানিয়েছে, ওই হামলায় দেশটির বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর আট সদস্য নিহত হন।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গত জুনে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা স্মারক। উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে সেই সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখা এবং কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। তবে এর ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়ন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন বিরোধ তৈরি হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব ইরানের। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ডেভিড ডেস রচেসের মতে, ইরান সমঝোতার বাইরে গিয়ে নতুন শর্ত আরোপের চেষ্টা করায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
হামলার পর ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, হরমুজ প্রণালি শুধুমাত্র ইরানের ব্যবস্থাপনায় উন্মুক্ত থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে তেহরান নতি স্বীকার করবে না।
এদিকে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কঠোরভাবে জবাব দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে আরও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নৌ-অবরোধ আরোপ, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা এবং আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।
ট্রাম্পের এই সামরিক অবস্থানের সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধী ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতে জড়ানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ হবে। সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনও সতর্ক করে বলেন, সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে।






