বিশেষ প্রতিনিধি : গত ১২ জুন পালিত হয়েছে বিশ্ব শিশু শ্রম দিবস ২০২৬। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিনটি বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য হলো শিশুদের জন্য নিরাপদ, সুরক্ষিত ও মর্যাদাপূর্ণ শৈশব নিশ্চিত করা এবং শিশু শ্রম নির্মূলে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের হাতে বই, খাতা ও স্বপ্ন শোভা পায়, শ্রমের ভার নয়। প্রতিটি শিশুর জন্মগত অধিকার হলো শিক্ষা, নিরাপত্তা, স্নেহ ও আনন্দময় শৈশব। কিন্তু দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য, পারিবারিক সংকট এবং সচেতনতার অভাবের কারণে এখনও অনেক শিশু বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রয়েছে। ফলে তারা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সমাজকর্মীরা মনে করেন, শিশু শ্রম শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়, এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনেরও একটি বড় উদাহরণ। শিশুদের শ্রমে নিয়োজিত করার পরিবর্তে তাদের বিদ্যালয়ে পাঠানো এবং দক্ষ ও মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলাই হতে পারে একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনের অন্যতম ভিত্তি।
বিশ্ব শিশু শ্রম দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও মানবাধিকার সংগঠন শিশু শ্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, দরিদ্র পরিবারের সহায়তা বৃদ্ধি এবং সকল শিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
সচেতন মহল বলছে, শিশু শ্রম বন্ধে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। শিশুদের প্রতি সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে এমন একটি সমাজ, যেখানে কোনো শিশুকে জীবিকার তাগিদে শ্রমে নামতে হবে না।
বিশ্ব শিশু শ্রম দিবস ২০২৬-এ সকলের প্রত্যাশা—বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশে শিশু শ্রমের অবসান ঘটুক এবং প্রতিটি শিশু শিক্ষা, স্নেহ, নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ শৈশবের অধিকার লাভ করুক। মানবিক ও কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শিশু শ্রমমুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই হোক সবার অঙ্গীকার।
স্লোগান:
“শিশু শ্রম নয়, শিক্ষা হোক প্রতিটি শিশুর অধিকার।”
“শিশুর হাতে বই-খাতা, গড়বে আগামীর বাংলাদেশ।”