বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন | ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ |১৬ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ জুলাই, ২০২৫

ঋতুপর্ণার স্বপ্নেও আসেনি, বাংলাদেশ খেলবে এশিয়ান কাপে

ঋতুপর্ণা, এশিয়ান কাপে

স্পোর্টস ডেস্ক: ‎শুধু ঋতুপর্ণা চাকমা কেন, অনেকেরই কল্পনাতে ছিল না! কিন্ত যা কল্পনা করেনি বেশির ভাগ মানুষ, সেটাই করে দেখাল বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল। প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে মেয়েরা।

‎বুধবার মিয়ানমারকে হারানোর পর বাহরাইন ও তুর্কমেনিস্তান ম্যাচ ড্র হওয়ায় ইতিহাসের অংশ হতে অপেক্ষা করতে হয়নি পিটার বাটলারের দলকে৷ সেদিন রাতেই সুখবর পাওয়ার পর দলের অনেক ফুটবলারই আনন্দে আত্মহারা হয়েছিলেন।

‎মিয়ানমার ম্যাচে জোড়া গোল করা ঋতুপর্ণার কাছে এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ইয়াঙ্গুন থেকে বাফুফের পাঠানো ভিডিও বার্তায় তেমনটাই বলেছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড, ‘এই অনুভূতি আসলে বলে প্রকাশ করতে পারব না। আমরা যখন জানতে পারি যে আমরা কোয়ালিফাই করেছি, এটা আসলে কল্পনার বাইরে ছিল। আমরা বহু বছর পর এত কষ্ট করে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছি। এটা আমাদের জন্য বড় অর্জন।’

বাহরাইনকে সাত গোল দিয়ে এশিয়ান বাছাই শুরু করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে এক গোল করেন ঋতুপর্ণা৷ মিয়ানমারের বিপক্ষে তাঁর জোড়া গোলে জয়ের পর তুর্কমেনিস্তান–বাহরাইন ম্যাচ ২–২ গোলে ড্র হওয়ায় এক ম্যাচ হাতে রেখেই এশিয়ান কাপের মূল পর্ব নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। আগামীকাল মিয়ানমার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাহরাইনের বিপক্ষে জিতলে আর বাংলাদেশ তুর্কমেনিস্তানের কাছে হারলেও দুই দলের পয়েন্ট সমান ৬ থাকবে। মুখোমুখি লড়াইয়ে মিয়ানমারের বিপক্ষে এগিয়ে থাকায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে বাংলাদেশই।

তবে কোচ ও সতীর্থদের মতো ঋতুপর্ণাও বললেন উদ্‌যাপনটা কালকের পরই করবেন তাঁরা, ‘আমরা এখনো উদ্‌যাপন করিনি। আরেকটা ম্যাচ আছে। তারপর উদ্‌যাপন করার পরিকল্পনা আছে।’

সর্বশেষ গত বছরের অক্টোবরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশকে জয়সূচক গোলটি উপহার দেন ঋতুপর্ণা। এবার দুই ম্যাচে করলেন তিন গোল। এর মধ্যে মিয়ানমার ম্যাচে তিনিই ত্রাতা। জয়ের পর আবেগাপ্লুত এই তারকা ফোন দিয়েছিলেন তাঁর মাকে। জয়ের খবর শুনে ঋতুপর্ণার অসুস্থ মাও মহাখুশি। যেমনটা বলেছেন ঋতুপর্ণা,  ‘জেতার পর মাকে কল দিয়েছি। পরিবারের সবাইকে। তারা সবাই খুব খুশি। দুটি গোল করেছি, মা তো একটু অসুস্থ। আমার গোল করার কথা শুনে সে অনেক খুশি, বলছিল যে তার আর নিজেকে অসুস্থ লাগছে না।’

‎আগামীকাল গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে তুর্কমেনিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এশিয়ান কাপের মূল পর্বের টিকিট পেয়ে গেলেও এই ম্যাচ জিতেই টুর্নামেন্ট শেষ করতে চায় বাংলাদেশ।

‎আগামী বছরের মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় হবে এএফসি এশিয়ান কাপের ২১তম আসর। ১২ দলের এই লড়াইয়ে আয়োজক অস্ট্রেলিয়া ছাড়া ২০২২ সালে এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন চীন, রানার্সআপ দক্ষিণ কোরিয়া ও তৃতীয় জাপানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত। তাদের সঙ্গে আছে বাংলাদেশও। বাছাই থেকে প্রথম দল হিসেবে এশিয়ান কাপ নিশ্চিত করেছেন মনিকা-রুপনারা। বাছাই থেকে বাকি সাত গ্রুপের সেরা সাত দল পাবে মূল পর্বে খেলার টিকিট।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.