শান্তিপূর্ণ ভোটে নতুন দৃষ্টান্ত, সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশংসা
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় যুক্ত হলো ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে। সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, জাল ভোট কিংবা বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার বাইরে থেকে একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোটাররা।
এই নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শুরু থেকেই বাহিনী নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সময়মতো নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে কঠোর ও সুস্পষ্ট অবস্থান নেন, যা নির্বাচনী প্রস্তুতিতে গতি আনে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভোটের আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে সেনাসদস্যদের টহল ও সতর্ক উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করে। ফলে ভোটের দিন কেন্দ্রগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। পরিবার-পরিজন নিয়ে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দৃশ্যমান উপস্থিতি অনিয়মের সম্ভাবনা কমিয়ে আনে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণের পর নির্বাচন আয়োজনের সময়সীমা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ভোট সম্পন্ন হয়। নির্বাচন বিলম্বিত করার যে আশঙ্কা ছিল, তা বাস্তবে রূপ নেয়নি।
বাংলাদেশের অতীতেও কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা ইতিবাচকভাবে আলোচিত হয়েছিল। এবারের নির্বাচনেও বাহিনীর পেশাদার আচরণ ও শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়াস নতুন করে জনআস্থা তৈরি করেছে বলে অনেকে মনে করছেন।
সব মিলিয়ে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে অনেকেই গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। ভবিষ্যতেও এমন স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনী প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সাধারণ মানুষের।








