রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন | ২রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ |২৭শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

প্রকাশ: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন, গেজেট প্রকাশ; এমপিদের বেতন-ভাতার কাঠামো কী?

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি)। ২৯৭টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে নির্বাচিত সদস্যদের নাম উল্লেখ করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।

নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্র নির্ধারিত বেতন, ভাতা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। এসব সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে ‘Member of Parliament (Remuneration and Allowances) Order, 1973’ অনুযায়ী। সময়ের প্রয়োজনে আইনটি একাধিকবার সংশোধন করা হয়েছে; সর্বশেষ সংশোধনী আসে ২০১৬ সালে।

মাসিক বেতন ও ভাতা

আইন অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য মাসিক ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতন পান। এর পাশাপাশি নির্বাচনি এলাকা ভাতা হিসেবে প্রতি মাসে ১২ হাজার ৫০০ টাকা এবং আপ্যায়ন ভাতা হিসেবে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

পরিবহণ ব্যয় বাবদ মাসে ৭০ হাজার টাকা ভাতা নির্ধারিত রয়েছে, যার মধ্যে জ্বালানি, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত। নির্বাচনি এলাকায় অফিস পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত ১৫ হাজার টাকা অফিস ভাতা দেওয়া হয়।

ব্যক্তিগত খরচের অংশ হিসেবে সংসদ সদস্যরা প্রতি মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা লন্ড্রি ভাতা এবং ৬ হাজার টাকা বিবিধ ব্যয় ভাতা পেয়ে থাকেন, যা দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয়ে ব্যবহৃত হয়।

শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ

সংসদ সদস্যদের জন্য উল্লেখযোগ্য সুবিধার একটি হলো শুল্ক ও করমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ। দায়িত্বকালীন সময়ে নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে একজন সদস্য একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য কর ছাড়াই আমদানি করতে পারেন। পাঁচ বছর পর একই সুবিধা পুনরায় গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

ভ্রমণ ও দৈনিক ভাতা

সংসদ অধিবেশন, কমিটির সভা বা দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কাজে যাতায়াতের জন্য আলাদা ভাতা দেওয়া হয়। রেল, বিমান বা নৌপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ হারে ভাতা প্রযোজ্য। সড়কপথে যাতায়াতের জন্য কিলোমিটারভিত্তিক হার নির্ধারিত আছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের জন্য বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা অথবা সমপরিমাণ ট্রাভেল পাস সুবিধা দেওয়া হয়।

দায়িত্বস্থলে অবস্থানের সময় দৈনিক ৭৫০ টাকা ভাতা ও ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা প্রাপ্য। সংসদ অধিবেশন বা কমিটির সভায় উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রতিদিন ৮০০ টাকা দৈনিক ভাতা ও ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা দেওয়া হয়।

চিকিৎসা, বীমা ও অনুদান সুবিধা

চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবার সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা পান। পাশাপাশি মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয়।

নিরাপত্তা বিবেচনায় সংসদ সদস্যদের জন্য ১০ লাখ টাকার বীমা সুবিধা রাখা হয়েছে, যা দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে কার্যকর হয়।

এছাড়া প্রত্যেক সদস্য বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহার করতে পারেন, যা নির্ধারিত নীতিমালা অনুসারে ব্যয়যোগ্য।

টেলিযোগাযোগ ও কর সুবিধা

প্রত্যেক সংসদ সদস্যের বাসভবনে সরকারি খরচে একটি টেলিফোন সংযোগ প্রদান করা হয়। এ বাবদ মাসে ৭ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া ও কল খরচ বহন করা হয়।

আইন অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের প্রাপ্ত ভাতাসমূহ আয়করমুক্ত। অর্থাৎ নির্ধারিত এসব ভাতার ওপর কোনো আয়কর প্রযোজ্য নয়।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.