

পুঁজিবাজার প্রতিবেদক শামীম রেজা :
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) কর্তৃক বাস্তবায়িত ৬টি জাহাজ ক্রয় প্রকল্পের জন্য গৃহীত ঋণ পরিশোধ এবং ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ঘোষিত লভ্যাংশ বাবদ সরকারের পাওনা মোট ২০৩.৪৭ কোটি টাকার চেক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মহোদয়ের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
চেক হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন, বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক, নির্বাহী পরিচালক, সচিব, প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাক্ষরিত Subsidiary Loan Agreement (SLA) অনুযায়ী ঋণের কিস্তি এবং ঘোষিত লভ্যাংশের অর্থ একত্রে এই চেকের মাধ্যমে সরকারকে প্রদান করা হয়।
বিএসসি’র জন্য জি-টু-জি ভিত্তিতে ৬টি নতুন জাহাজ ক্রয়ের লক্ষ্যে বাস্তবায়িত “৬টি নতুন জাহাজ ক্রয় (প্রতিটি প্রায় ৩৯,০০০ ডিডব্লিউটি সম্পন্ন ৩টি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার ও ৩টি বাল্ক ক্যারিয়ার)” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ সরকার (অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) ও চীন সরকার (চায়না এক্সিম ব্যাংক)-এর মধ্যে ১৪ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে একটি ঋণচুক্তি (Loan Agreement) স্বাক্ষরিত হয়।
উক্ত ঋণের মূল অর্থের পরিমাণ ছিল ১,১৯৯,৯৯৯,০৭০ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১,৪৫৭.৬৮ কোটি টাকা। এর ধারাবাহিকতায় ঋণ পরিশোধের লক্ষ্যে ২৭ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে সরকারের অর্থ বিভাগ ও বিএসসি’র মধ্যে পৃথক Subsidiary Loan Agreement (SLA) স্বাক্ষরিত হয়।
এই চুক্তি অনুযায়ী বিএসসি আগামী ১৩ বছরের মধ্যে মোট ২,৪২৫.০২ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকারকে পরিশোধ করবে।
স্বাক্ষরিত SLA চুক্তি অনুযায়ী গ্রেস পিরিয়ডকালীন সুদ বাবদ ৪৭৫.২৫ কোটি টাকার একটি চেক ইতোমধ্যে ২৬ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রায় ২৭ বছর পর ২০১৮-১৯ মেয়াদে উক্ত প্রকল্পের মাধ্যমে বিএসসি’র বহরে ৬টি আধুনিক বাণিজ্যিক জাহাজ যুক্ত হয়। এর মধ্যে বর্তমানে ৫টি জাহাজ— এম. ভি. বাংলার জয়যাত্রা, এম. ভি. বাংলার অর্জন, এম. টি. বাংলার অগ্রযাত্রা, এম. টি. বাংলার অগ্রদূত, এম. টি. বাংলার অগ্রগতি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত রয়েছে এবং বাংলাদেশের পতাকা স্বগৌরবে বহন করছে।
বিএসসি’র ৫৪ বছরের ইতিহাসে সর্বশেষ অর্থবছরে সংস্থাটি প্রায় ৮০০ কোটি টাকা আয় করে এবং ৩০৬.৫৬ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করে, যা সর্বোচ্চ। এই সাফল্যে প্রকল্পের আওতায় সংগৃহীত জাহাজগুলোর ভূমিকা অপরিসীম বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে বিএসসি ইতোমধ্যে নতুন জাহাজ সংগ্রহের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ২টি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ সংগ্রহের আওতায়—
বাংলার প্রগতি জাহাজটি গত ২৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ডেলিভারি গ্রহণ করে বাণিজ্যে যুক্ত হয়েছে।
বাংলার নবযাত্রা জাহাজটি আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ডেলিভারির জন্য নির্ধারিত রয়েছে।
এছাড়া, সরকারি অর্থায়নে ২টি এমআর প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার, নিজস্ব অর্থায়নে ১টি আল্ট্রাম্যাক্স বাল্ক ক্যারিয়ার এবং চীন থেকে জি-টু-জি ভিত্তিতে আরও ৪টি বড় আকারের মাদার ভেসেল সংগ্রহের পরিকল্পনাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সমুদ্র পরিবহন খাতে বিএসসি’র সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
www.dainikpujibazar.com
কপিরাইট © দৈনিক পুঁজিবাজার ২০২৪ সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত