
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : দেশের ব্যাংকিং খাতে বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকা সাড়ে ৫৩ কোটি টাকার বেশি অদাবিকৃত আমানতের মালিক খুঁজছে ব্যাংকগুলো। দীর্ঘদিন কোনো দাবিদার না থাকায় নিয়ম অনুযায়ী এসব অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক-এর ‘আনক্লেইমড ডিপোজিট অ্যাকাউন্টে’ জমা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, এসব অর্থের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, অদাবিকৃত আমানতের তালিকায় সবচেয়ে বেশি অর্থ রয়েছে সিটি এনএ-এর কাছে, যার পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি টাকা। এছাড়া ব্র্যাক ব্যাংক, এইচএসবিসি এবং সিটি ব্যাংক-এর কাছেও পড়ে আছে লাখ লাখ টাকা এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা।
ব্যাংকারদের ভাষ্য, হিসাবধারী মারা যাওয়া, নিখোঁজ হওয়া বা স্থায়ীভাবে বিদেশে চলে যাওয়ার কারণে অনেক সময় এসব আমানতের খোঁজ রাখার কেউ থাকে না। ফলে বছরের পর বছর হিসাবগুলো অলস অবস্থায় পড়ে থাকে।
ব্যাংকিং বিধি অনুযায়ী, কোনো হিসাবে টানা ১০ বছর লেনদেন না হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে নোটিশ পাঠানো হয়। এরপরও কোনো সাড়া না পাওয়া গেলে ওই অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আনক্লেইমড ডিপোজিট অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। পরে এক বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশ করা হয় এবং আরও এক বছর দাবিদারদের আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়। সব মিলিয়ে ১২ বছর ৩ মাস পরও কেউ দাবি না করলে সেই অর্থ রাষ্ট্রের সম্পদ হিসেবে গণ্য হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিজের বা পরিবারের সদস্যদের পুরনো ও দীর্ঘদিন ব্যবহার না করা ব্যাংক হিসাব আছে কি না, তা এখনই যাচাই করা জরুরি। সময়মতো খোঁজ না নিলে বৈধ আমানতও শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় কোষাগারে চলে যেতে পারে।
www.dainikpujibazar.com
কপিরাইট © দৈনিক পুঁজিবাজার ২০২৪ সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত