যে কারণে তৈরি হয়েছিল চ্যাটজিপিটি
তথ্য ও প্রযুক্তির বিবর্তনে এক নতুন অধ্যায়
অনলাইন ডেস্ক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার লক্ষ্যেই তৈরি হয়েছে চ্যাটজিপিটি। তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির যুগে বিপুল পরিমাণ তথ্যের ভিড়ে সঠিক, প্রাসঙ্গিক ও সহজবোধ্য তথ্য পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছিল। এই বাস্তবতা থেকেই মানুষের ভাষা বুঝে তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা দিতে সক্ষম একটি বুদ্ধিমান ডিজিটাল সহকারীর প্রয়োজন দেখা দেয়। সেই প্রয়োজন পূরণ করতেই গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই (OpenAI) চ্যাটজিপিটি তৈরি করে।
চ্যাটজিপিটির মূল উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সিস্টেম তৈরি করা, যা মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিক ভাষায় কথোপকথন করতে পারবে। এটি শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং শিক্ষা, গবেষণা, সাংবাদিকতা, ব্যবসা, প্রোগ্রামিং, কনটেন্ট তৈরি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকর সহায়তা দিতে সক্ষম। প্রযুক্তিটি বড় আকারের ভাষা মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা বই, গবেষণাপত্র, সংবাদ, ওয়েবসাইটসহ নানা উৎস থেকে ভাষার গঠন ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেটভিত্তিক সার্চ ইঞ্জিনে তথ্য খুঁজতে গিয়ে ব্যবহারকারীদের অনেক সময় অসংখ্য লিংক ঘেঁটে দেখতে হয়। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সঠিক তথ্য বাছাই করাও কঠিন হয়ে পড়ে। চ্যাটজিপিটি এই সমস্যার সমাধান করে মানুষের প্রশ্ন অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত, স্পষ্ট ও প্রসঙ্গভিত্তিক উত্তর প্রদান করে। ফলে তথ্যপ্রাপ্তি হয় দ্রুত ও সহজ।
ওপেনএআই জানিয়েছে, চ্যাটজিপিটি তৈরির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা। এআই প্রযুক্তি যেন মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হয় এবং ভুল তথ্য, বিভ্রান্তি বা ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ঝুঁকি কমে—সে বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এজন্য প্রযুক্তিটির উন্নয়নে নীতিমালা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ব্যবহারকারীর প্রতিক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

চ্যাটজিপিটি শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য একটি শক্তিশালী সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি জটিল বিষয় সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা, নোট তৈরি, অনুশীলনী সমাধান ও গবেষণায় সহায়তা দিচ্ছে। একইভাবে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমে সংবাদ লেখা, তথ্য যাচাই ও বিশ্লেষণে প্রযুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ব্যবসা ও করপোরেট খাতে গ্রাহকসেবা, বিপণন কৌশল নির্ধারণ ও ডেটা বিশ্লেষণেও এর ব্যবহার বাড়ছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, চ্যাটজিপিটি কেবল একটি চ্যাটবট নয়; বরং এটি মানুষের কাজের গতি বাড়ানো, সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করা এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ভবিষ্যতে এ ধরনের এআই প্রযুক্তি আরও উন্নত হয়ে মানুষের চিন্তা ও কাজের ধরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।











