
‘গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধে’ জড়ানোর অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) অভিযোগপত্রে নাম আসা সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৫ জনকে সেনা হেফাজতে নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এর মধ্যে ১৪ জন কর্মরত এবং একজন অবসর প্রস্তুতিকালীন ছুটিতে (এলপিআর) থাকা কর্মকর্তা। তবে নোটিস পাওয়ার পরও একজন কর্মকর্তা সাড়া দেননি, জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান।
রোববার (১২ অক্টোবর) ঢাকা সেনানিবাসের স্টাফ রোড মেসের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি। মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান জানান, সেনা কর্মকর্তাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে ‘আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে’ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ সময়ে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সব সময় সংবিধান ও প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আমরা আপসহীন। সেনাবাহিনী চায় না, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে সেনা আইনের সঙ্গে মুখোমুখি দাঁড় করানো হোক।”
গত বুধবার (৮ অক্টোবর) আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলায় ৩০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর পরদিনই সেনাবাহিনী তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে সংবাদ সম্মেলন করে।
মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান বলেন, “আমরা টেলিভিশনের স্ক্রলে জানতে পারি যে আইসিটিতে চার্জশিট জমা পড়েছে। ওই চার্জশিটগুলোর মধ্যে একটি ছিল গুম সংক্রান্ত, যেখানে তখন ডিজিএফআইয়ে কর্মরত অনেক কর্মকর্তার নাম রয়েছে। আরেকটি র্যাবের টিএফআই সেল, আরেকটি রামপুরার ঘটনার ওপর ভিত্তি করে।”
তিনি জানান, অভিযোগপত্রে ২৫ জন সেনা কর্মকর্তার নাম রয়েছে, যাদের মধ্যে ৯ জন অবসরপ্রাপ্ত, ১ জন এলপিআরে, এবং ১৫ জন কর্মরত। সেনাবাহিনী আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকায় স্বপ্রণোদিতভাবে ১৫ জন কর্মকর্তাকে হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়, এবং তারা ৯ অক্টোবর সেনানিবাসে হাজির হন।
তিনি আরও জানান, মেজর জেনারেল কবির নামে এক কর্মকর্তা এখনো সেনা হেফাজতে আসেননি। তার স্ত্রী জানিয়েছেন, ৮ অক্টোবর সকালে তিনি বাড়ি থেকে বের হন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ নেই। ফলে নিয়ম অনুযায়ী তাকে ‘এডব্লিউওএল’ (ইলিগ্যাল এবসেন্ট) ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থল, নৌ ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে যেন তিনি দেশত্যাগ করতে না পারেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান বলেন, “আইসিটি থেকে চার্জশিটের কপি পেলে আমরা নিজস্বভাবে তদন্ত করব, কে কোন অপরাধে অভিযুক্ত তা যাচাই করব এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যও নেওয়া হবে।”
জানা গেছে, র্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে নির্যাতনের মামলায় ১৭ জন এবং জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) বন্দি রেখে নির্যাতনের মামলায় ১৩ জন আসামি হিসেবে নাম এসেছে। দুই মামলাতেই প্রধান আসামি করা হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালকের নামও রয়েছে আইসিটির আসামি তালিকায়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা গুম, খুনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের নিরপেক্ষ বিচার চায়, এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেবে না।
www.dainikpujibazar.com
কপিরাইট © দৈনিক পুঁজিবাজার ২০২৪ সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত