বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৯ অপরাহ্ন | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ |২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি
শিরোনাম:
জেএমআই সিরিঞ্জের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা CASH DIVIDEND DISTRIBUTION NOTICE FOR THE YEAR 2024-2025 OF SHEPHERD INDUSTRIES PLC প্রাইম ফাইনান্সের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট পুঁজিবাজারে সূচক বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে ইতিবাচক ধারায় লেনদেন শেষ হয়েছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময়ে সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, প্রধান উপদেষ্টা ইসরাইলের বিরুদ্ধে এবার মামলার হুঁশিয়ারি জাতিসংঘ মহাসচিবের বিএসসি’র ৬ জাহাজ ক্রয়ে সরকারকে ২০৩.৪৭ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর নগদ লভ্যাংশ পাঠিয়েছে পুঁজিবাজারে চার কোম্পানী আলহাজ্ব টেক্সটাইলের বোনাস শেয়ারে সম্মতি দেয়নি বিএসইসি

সর্বশেষ আপডেট:

প্রকাশ: সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫

অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন জোয়েল ময়কার, ফিলিপ এজিওঁ ও পিটার হাউইট

চলতি বছরের অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জোয়েল ময়কার, ফ্রান্সের ফিলিপ এজিওঁ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পিটার হাউইট
তাদেরকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে ‘উদ্ভাবননির্ভর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাখ্যা করার জন্য’ অসামান্য অবদানের কারণে।

সোমবার (১৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায় রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস আনুষ্ঠানিকভাবে এবারের নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।

জোয়েল ময়কার যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির গবেষক।
ফিলিপ এজিওঁ ফ্রান্সের নাগরিক এবং কলেজ দে ফ্রান্সলন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সে (LSE) অধ্যাপনা করেন।
অন্যদিকে পিটার হাউইট যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক।

উদ্ভাবন ও টেকসই প্রবৃদ্ধির স্বীকৃতি

নোবেল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত দুই শতাব্দীতে প্রথমবারের মতো বিশ্ব ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, যার ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছে।
এই পরিবর্তনের পেছনে মূল চালিকা শক্তি ছিল উদ্ভাবন—আর এই বাস্তবতাকেই বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করেছেন এ বছরের তিন বিজয়ী।

তারা দেখিয়েছেন, কীভাবে নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন পুরোনো পণ্য ও প্রক্রিয়াকে প্রতিস্থাপন করে, এবং সেই ধারাবাহিক পরিবর্তনই টেকসই প্রবৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি, যা বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবনমান, স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করছে।

গবেষণার মূল অবদান

ইতিহাসবিদ ও অর্থনীতিবিদ জোয়েল ময়কার তার গবেষণায় দেখিয়েছেন, টেকসই প্রবৃদ্ধি তখনই সম্ভব, যখন সমাজে বৈজ্ঞানিক চিন্তা, নতুন ধারণার প্রতি উন্মুক্ততা এবং পরিবর্তন গ্রহণের মানসিকতা বিদ্যমান থাকে।
তিনি ঐতিহাসিক দলিলের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন, কেন শিল্পবিপ্লব-পূর্ব যুগে উদ্ভাবনের ধারাবাহিকতা টেকসই হয়নি, এবং কিভাবে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার বিকাশ মানব সমাজে প্রবৃদ্ধিকে ‘নতুন স্বাভাবিক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

অন্যদিকে ফিলিপ এজিওঁ ও পিটার হাউইট ১৯৯২ সালে তৈরি করেন এক গাণিতিক মডেল, যেখানে ব্যাখ্যা করা হয় ‘সৃষ্টিশীল ধ্বংস’ (Creative Destruction) ধারণাকে।
এই প্রক্রিয়ায় নতুন ও উন্নত পণ্য বাজারে এলে পুরোনো প্রযুক্তি বা পণ্য প্রতিযোগিতায় হার মানে। অর্থাৎ, উদ্ভাবন যেমন সৃষ্টিশীল, তেমনি ধ্বংসাত্মকও, কারণ এটি পুরোনো ব্যবস্থাকে অচল করে দেয়।

নোবেল কমিটির বার্তা

নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান জন হাসলার বলেন,

“এই তিন অর্থনীতিবিদের গবেষণা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্বয়ংক্রিয় নয়।
আমাদের অবশ্যই সেই প্রক্রিয়াগুলো টিকিয়ে রাখতে হবে, যা সৃষ্টিশীল ধ্বংসকে সম্ভব করে তোলে। তা না হলে আমরা আবার স্থবিরতার যুগে ফিরে যেতে পারি।”

বিশ্লেষকদের মতে, এ বছরের নোবেল পুরস্কার শুধু তিন গবেষকের অবদানকেই স্বীকৃতি দেয়নি, বরং বিশ্ব অর্থনীতিতে উদ্ভাবন ও জ্ঞানভিত্তিক প্রবৃদ্ধির গুরুত্বকেও নতুনভাবে সামনে এনেছে।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.